বাঁশী
বাঁশী অনেক প্রকার । তার মধ্যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নামে তিনটি প্রধান বাঁশী আমরা পাই । বংশী , বেনু , মুরলী ।
জগতের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তাঁহার বাঁশী বাজিতেছে। কোন বৈষ্ণব কবি লিখিয়াছেন, বাঁশীর এক রন্ধ্রের সুরে বনে উপবনে কুসুমের কুঁড়ি ফুটিয়া উঠে, কোনও রন্ধ্রের সুরে বসন্তাগম হয়, কোন রন্ধ্রের সুরে ফুলফল মণ্ডিত হইয়া একত্র ষড় ঋতু দেখা দেয় এবং সকলের উপরে এক রন্ধ্রের সুর অবিরত জীবকে ‘রাধা’-‘রাধা’ বলিয়া ডাকিতে থাকে। (পদকল্পতরু, জ্ঞানদাসের পদ)। আমাদের কাছে সে ডাক পৌঁছায় না, কারণ ইন্দ্রিয়ের কলরবে আমাদের কাণ বধির করিয়া রাখিয়াছে।
অষ্টম রন্ধ্রেতে রাই ,
আমি তোমারি গুণগান গাই ।
************************
বংশী বাজায় কে রে সখী ,বংশী বাজায় কে ? আমার মাথার বেনী খুইলা দিমু তারে আইনা দে , প্রাণ সখীরে .... সব বাঁশী বাজালে কিন্তু হবেনা , বংশী বাঁশী বাজাতে হবে।
===========================================
শ্রী কৃষ্ণের বাঁশী মূলত তিন ধরনের ।
মুরলী
বংশী
বেণু
যে বাঁশীটি দুই হাত লম্বা চারটি ছিদ্র যুক্ত তাকে বলা হয় মুরলী ।
যে বাঁশীটি ১৭ অংগুলী লম্বা ও ৮ টি ছিদ্র তাকে বলা হয় বংশী ।
যে বাঁশীটি ১২ অংগুলী লম্বা ও ৬ টি ছিদ্র তাকে বলা হয় বেণু ।
ভগবান শ্রী কৃষ্ণ এই তিন বাঁশীতে সমান পারদর্শী । তাই তাঁকে আমরা বলে থাকি
মুরলীধর , বংশীবাদক ও বেণু মাধব ।
এই যে বংশী বাঁশীর ৮ টি ছিদ্র / রন্ধ্র । এর অষ্টম রন্ধ্রে শ্রী কৃষ্ণ বলছেন
অষ্টম রন্ধ্রেতে রাই ,
আমি তোমারি গুণগান গাই ।
তাইতো রাধারাণী বংশীবাদকের সুর শুনে পাগল হয়ে যান ।
শ্রীকৃষ্ণের আর একটি বংশী আছে যা আরও লম্বা, যাকে বলা হয় মহানন্দ বা সম্মোহনী। তা যখন তার থেকেও লম্বা হয়, তখন বলা হয় আকর্ষণী। তা যখন তার থেকেও লম্বা হয় তখন তাকে বলা হয় আনন্দিনী। এই আনন্দিনী বংশীধ্বনি গোপ বালকদের অত্যন্ত প্রিয়। এর আর একটি নাম বংশুলী।
এই বাঁশীগুলি কখনো কখনো মণিরত্ন খচিত থাকে, কখনো তা মর্মর দিয়ে তৈরী হয় এবং কখনো কখনো বাঁশ দিয়ে তৈরী হয়। বাঁশি যখন মণিরত্ন দিয়ে তৈরী হয় তখন তাকে বলা হয় সম্মোহনী। আর যখন তা স্বর্ণ দিয়ে তৈরি হয়, তাকে বলা হয় আকর্ষণী।
বাঁশী পূর্ব জন্মে ছিলেন সরস্বতী । বলা হয়ে থাকে বাঁশী সরস্বতীর অবতার । সরস্বতী গোবিন্দকে বলেছিলেন , হে গোবিন্দ আমি তোমার অধরের সুধা পান করতে চাই ।
গোবিন্দ বললেন বাঁশী রুপে সুধা পান করবে । এবার সুধা পান করে সরস্বতী দেখলেন এত সুধা , একা কি করে পান করব ? তাই ৬ রাগ ও ৩৬ রাগিনী সৃষ্টি করে সুরের মধ্যে সেই সুধাকে বিতরণ করলেন । রাধে রাধে ।
প্রচলিত মত অনুসারে রাগ ছয়টি এবং তাদের স্ত্রী রাগ অথবা রাগিণী হচ্ছে ছয়টি করে, মোট ছত্রিশটি। এখানে ছয় রাগ ও তাদের রাগিণীদের তালিকা দিলাম-
ভৈরব- ভৈরবী, রামকেলী, বঙ্গালী, কলিঙ্গা, মঙ্গলিকা, সিন্ধু
মালকৌশ- কৌশিকী, টঙ্কা, গর্জরী, বাগেশ্বরি, নাটিকা, মুদ্রাকী
হিন্দোল- পুরিয়া, জয়ন্তী, দেবগিরি, ককুতা, বেলাবলি, দেশকার
দীপক- ললিতা, শোভনী, কামোদী, কাদারী, কল্যাণী, ভূপালী
শ্রী- ধনাশ্রী, ত্রিবেণী, মালবী, মালবশ্রী, গৌরী, জয়তশ্রী
মেঘ- মল্লারী, সৌরটী, দেশাক্ষী, সারঙ্গী, বড়হংসিকা, মধুমাধবী
রাধে রাধে ।
Comments
Post a Comment