তীর্থ
তীর্থ
তীর্থ একটি সংস্কৃত শব্দ ।যার অর্থ দাঁড়ায় "ক্ষেত্র উত্তরণ, হাঁটিয়া পার হত্তয়া" এবং যেকোন স্থান, পাঠ বা ব্যক্তিকে বোঝায় যা পবিত্র।তীর্থের সাথে সম্পর্কিত প্রক্রিয়া বা যাত্রাকে বলা হয় তীর্থ-যাত্রা,যদিও কিছু হিন্দু ঐতিহ্যে "তীর্থস্থান" বোঝাতে বিকল্প শব্দ যেমন ক্ষেত্র, গোপীঠ ও মহালয়া ব্যবহার করা হয়।
সাধারণ অর্থে তীর্থ শব্দটি ব্যবহার করে এমন কোনও স্থান, এলাকা বা জলের বিস্তৃতি বোঝাতে যেখানে পরিস্থিতি বা মহান ঋষি বা গুরুদের উপস্থিতি বিশেষ করে তুলেছে।
পুরো ভারতবর্ষে এরকম হাজার হাজার তীর্থস্থান আছে । যেখানে ভক্তগন যান নিজেকে একটা অন্যমাত্রায় নিয়ে যেতে । যেখানে গেলে মন পরিবর্তন হয় , সেই জায়গাগুলি পরিদর্শন করে ভক্ত নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করে ।
ভারতবর্ষে এই তীর্থক্ষেত্রগুলো রাষ্ট্রিয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ও নিজেদের মধ্যে দলাদলির কারণে আস্তে আস্তে খারাপ অবস্থার দিকে চলে যাচ্ছিলো । স্বামী প্রণবানন্দ এই তীর্থক্ষেত্রগুলো সংস্কার করতে উদ্যোগী হলেন এবং প্রত্যেক তীর্থক্ষেত্রে নিজেদের একটি সংঘ প্রতিষ্ঠা করা জন্য ব্রতী নিলেন । তিনি লক্ষ্য করলেন এই সব তীর্থক্ষেত্র পরিদর্শন করতে আসেন দুর দুরান্ত তথা অন্যরাজ্য থেকে ভক্তগন । তারা অচেনা জায়গায় এসে প্রথমেই স্থানীয় কিছু অসৎ লোকের দ্বারা প্রতারিত হন আবার ক্ষেত্রগুলো পরিদর্শন করতে গিয়ে পাণ্ডাদের অত্যাচারের স্বীকার হোন । ভুল তথ্য দিয়ে , ভুলভাল কথা বলে ভক্তদের অর্থ একপ্রকার তছরুপ করে নিতেই এই সব ভন্ড পাণ্ডারা । স্বামীজি এই সব ভন্ড পাণ্ডাদের বিরুদ্ধে তাঁর সংঘ ভক্তদের নিয়ে একপ্রকার যুদ্ধ ঘোষণা করলেন । প্রায় অনেক ক্ষেত্রেই উনি সফল হলেন ।
যাকে আমরা ভারতবর্ষের নতুন করে তীর্থ সংস্কার বলতেই পারি ।
Comments
Post a Comment