আজকের দেশপ্রেম
আজকের দেশপ্রেম
==============
”যে মাঠ থেকে এসেছিল স্বাধীনতার ডাক,সেই মাঠে আজ বসে নেশার হাট”
- রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ।
ঊনবিংশ শতাব্দী র নবজাগরণ র আলোকে বঙ্গভূমি তে উদ্ভাসিত হয়েছিল দেশাত্মবোধ, সৃষ্ট হয়েছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ, বিদেশী শক্তি র বিরুদ্ধে আমরণ সংগ্রাম র প্রজ্ঞা - ঘোষিত হয়েছিল এক রণধ্বনি - দেশমাতৃকা কে শৃঙ্খলমুক্ত করার জন্য আত্মত্যাগ র, স্বীয় রক্তস্রোত র মাধ্যমে মাতা র পূজার - জননী জমভূমিশ্চ স্বর্গাদপী গরিয়সী। কবি র ভাষায় বেজে উঠলো তার অন্তর্নিহিত আকুতি -
এসেছে সে এক দিন
লক্ষ পরাণে শঙ্কা না জানে
না রাখে কাহারো ঋণ
জীবন মৃত্যু পায়ের ভৃত্য, চিত্ত ভাবনাহীন।
বন্দী বীর ( রবিঠাকুর )
দেশপ্রেম সব সময় দুই রকম।
১) দৃশ্যমান দেশপ্রেম (Visible Patriotism )
২) অদৃশ্য দেশপ্রেম (Invisible Patriotism )
( The quality of being patriotic; devotion to and vigorous support for one's country.)
বঙ্গবন্ধু প্রায় ১৪/১৫ বছর জেল খানায় কাটিয়ে দিয়েছিলেন । কারণ পরাধীন বাংগালীর মুক্তির জন্য । তার এই অবদানের কথা তখনকার অনেকেই জানতেন আবার অনেকেই জানতেন না । আবার তিনি যদি দেশ স্বাধীন না করতেন তবে হয়ত একথাগুলো আমাদের জানাই হতোনা । ইতিহাস সব সময় সফলদের কথা বলে ।
তাজউদ্দীন সাহেব বললেন , আসুন আমরা এমন ভাবে কাজ করি যাতে ইতিহাস আমাদের খুঁজে না পায় ।
ভাষানী সাহেব অনেক কিছু হতে পারতেন । কিছুই হলেন না । সারাজীবন মানুষের জন্য কাজ করে গেলেন । দেশসেবা করতেই যেন তাঁর জন্ম । অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেই যেন তাঁর জন্ম।
এই মহান মানুষগুলোর দেশ প্রেমকে আমরা কোন দিকে ফেলব ?
আমার কাছে এই মানুষগুলোকে কবি নজরুলের কবিতার নায়কের মত মনে হয় ।
তিমির-বিদারী অলখ-বিহারী
কৃষ্ণ মুরারী আগত ঐ
টুটিয়া আগল নিখিল পাগল
সর্বসহা আজি সর্বজয়ী।
আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে যখন দেশপ্রেমের কথা উঠে তখন বলতেই হয় উনাদের কাছ থেকে আমরা কি শিখলাম ? নাকি আমরা শিখতে চাইলাম না ।
যদি শিখে থাকি তবে আমরা উৎকোচ গ্রহণ করি কেন ?
রাজনীতিবিদ হয়ে দুর্ণীতিবাজ হয়ে যায় কেন ?
আমরা এই সব অসৎ মানুষদের রাজনীতিতে বড় বড় পদ দেই কেন ?
আমরা যারা নিয়োগ দেই , সেই আমরাও একই ঐ অসৎদের দলে ?
নদী দখল করি কেন ? করতে দেই কেন ?
আইন মানতে চাইনা কেন ?
দেখা যায় আমরা সমাজে সবচেয়ে শিক্ষিত মানুষগুলো বেশী দুর্ণীতি গ্রস্থ , কেন ?
আমরা এখোনো রাস্তায় পলিথিন ফেলা ছাড়লাম না । আমাদের দেশপ্রেম কবে আসবে ? এখোনো রাজনৈতিক দলের নেতারা সভা সমাবেশ করে খাবার দেয় কাগজের প্যাকেটের মধ্যে একটা পলিথিনে । খাবার শেষে পলিথিন কোথায় ফেলবে সে ব্যবস্থা তারা করেন না । খাবার পানি দেয় প্লাষ্টিকের বোতলে । কিন্তু সেই বোতল কোথায় ফেলবে কেউ জানেনা ।
- গৌরী প্রসন্ন মজুমদার এর কথা দিয়েই শেষ করি।
‘জয় বাংলা’ বলতে মনরে আমার এখনো কেন ভাবো, আমার হারানো বাংলাকে আবার তো ফিরে পাবো, অন্ধকারে পুবাকাশে উঠবে আবার দিনমণি “
Comments
Post a Comment