বেদে বিদ্যা অর্জনে বৈষম্য ছিলোনা
বিস্তারিত জানতে হলে ক্লিক করুন - নীচের লিংকে ।
এবার তাহলে আসুন, স্বয়ং বেদ কি বলে দেখি—
❏ যথেমাং বাচং কল্যাণীমাবদানি জনেভ্যঃ
ব্রহ্মরাজন্যাভ্যাং শূদ্রায় চার্য্যায় চ স্বায় চারণায়।।
প্রিয়ো দেবানাং দক্ষিণায়ৈ দাতুরিহ ,ভূয়াসময়ং মে কামঃ সমৃধ্যতামুপ মাদো নমতু ।।
➢ যজুর্বেদ ২৬/২
বঙ্গানুবাদঃ হে মনুষ্যগন আমি যেরূপে ব্রাক্ষণ, ক্ষত্রিয় ,বৈশ্য ,শূদ্র , স্ত্রীলোক এবং অন্যান্য সকল জনগনকে এই কল্যানদায়িনী পবিত্র বেদবাণী বলিতেছি, তোমরাও সেই রূপ কর। যেমন বেদবাণীর উপদেশ করিয়া আমি বিদ্বানদের প্রিয় হয়েছি, তোমরাও সেইরুপ হও। আমার ইচ্ছা বেদ বিদ্যা প্রচার হোক। এর দ্বারা সকলে মোক্ষ এবং সুখ লাভ করুক ।
উপরোক্ত বেদ মন্ত্রে পরমেশ্বর স্বয়ং বলেছেন আমি ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র, নারী মনুষ্য মাত্র সকলের জন্য কল্যানদায়ি বেদবাণী বলিয়াছি এবং সবাইকে বেদবাণী উপদেশ কর; বেদ অধ্যয়ন না করে তার উপদেশ, প্রচার করা কি সম্ভব? এ জন্য এখানে সবাই কে বেদ অধ্যয়ন করতে বলেছেন, প্রচার করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
এখন ভাগবতের বক্তব্য অনুসারে প্রশ্ন হচ্ছে....
☞ স্ত্রী, শূদ্রদের বেদ হৃদয়ঙ্গম করার, বুঝার ক্ষমতাই যদি না থাকে, তাহলে তাদের কে বেদবাণী বলেছে কেন?
☞ স্ত্রী, শূদ্রদের বেদ হৃদয়ঙ্গম করার ক্ষমতা না থাকলে, তাদের জন্য বেদের বাণী কিভাবে কল্যানদায়িনী হল?
☞ যে বেদ তারা হৃদয়ঙ্গম করতে পারবে না সে বেদ তারা প্রচার করবে কিভাবে?
☞ তাদের কেও বেদ বাণীর উপদেশ প্রচার করতে বল্লেন কেন?
স্ত্রী, শূদ্রের বেদ পাঠ করার অধিকার, বুঝার, হৃদয়ঙ্গম করার ক্ষমতা তো আছেই এমনকি বেদ দ্রষ্টা ঋষিদের মধ্যে নারী, শূদ্র ঋষি পর্যন্ত আছে। নারী ঋষিকাগণের মধ্যে রোমশ, লোপামুদ্রা, বাক্, অপালা, কাদ্রু, বিশ্ববারা, ঘোষা, জুহু, ভগম্ভ্রিনি, পৌলমি, যমী, ইন্দ্রাণী, সাবিত্রী, দেবযানী, নোধা, গৌপায়না, অম্ভৃনী প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
বেদ দ্রষ্টা ঋষি দের মধ্যে যেমন নারী ঋষিকা আছে; তেমনি "শূদ্র" ঋষিও আছে। সেই বেদ দ্রষ্টা শূদ্র ঋষির নাম হচ্ছে "কবষ"। তিনি ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪ সূক্তের মন্ত্র দ্রষ্টা ঋষি।
☞ প্রশ্ন হচ্ছে স্ত্রী, শূদ্রের বেদ হৃদয়ঙ্গম করার, বুঝার ক্ষমতা যদি না থাকে এবং পড়ার অধিকার ও যদি না থাকে তাহলে তাঁরা বেদের মন্ত্রদ্রষ্টা ঋষি হলেন কিভাবে?
নারী-পুরুষ, মনুষ্য মাত্র সকলের জন্য সংস্কার আবশ্যক এবং প্রযোজ্য।
❏ যুব সুবাসাঃ পরিবীত আগাৎস উ শ্রেয়ান্ ভবতি জায়মানঃ।
তং ধীরাসঃ কবয় উন্নয়ন্তি স্বাধ্যো মনসা দেবয়ন্ত।।
➢ ঋগ্বেদ ৩/৮/৪
বঙ্গানুবাদঃ ব্রহ্মচর্য পূর্ব্বক বিদ্যালাভ করিয়া, উত্তমবস্ত্র পরিধান করিয়া যৌবন কালে যিনি গার্হস্থ্য আশ্রমে উপনীত হন তিনিই দ্বিজত্ব লাভে খ্যাতি অর্জ্জন করিয়া মহৎ হন। ধ্যান পরায়ণ, মননশীল, জ্ঞান প্রচারক, ধৈর্যবান্ বিদ্ধানেরা সেই পুরুষকে উন্নতি লাভে সহায়তা প্রদান করেন।
বেদ যুবক-যুবতী উভয় কে ব্রহ্মচর্য পালন করার নির্দেশ দেয়।
❏ ব্রহ্মচর্যেন কন্যা যুবানং বিন্দতে পতিম্।
অনডৃবান্ ব্রহ্মচর্যেনাশ্বো ঘাসং জিগীর্ষতি।।
➢ অথর্ববেদ ১১/৫/১৮
বঙ্গানুবাদঃ ব্রহ্মচর্য অবলম্বন করিবার পর কুমারী কন্যা যুবা পতিকে লাভ করিবে। বলবান ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিই ভোগ্য পদার্থকে সম্যক ভোগ করিতে পারে।
বেদ পতি-পত্নী কে একসাথে যজ্ঞ করতে বলেন।
❏ যা দম্পতী সমনসা সুনুত আ চ ধাবতঃ।
দেবাসো নিত্যয়াহশিরা।
➢ ঋগ্বেদ ৮/৩১/৫
বঙ্গানুবাদঃ হে বিদ্ধানগণ! যে পত্নী ও পতি এক সঙ্গে একমনে যজ্ঞ করে, উপাসনা দ্বারা যাহাদের মন পরমাত্মার দিকে ধাবমান হয় তাহারা নিত্য পরমাত্মার আশ্রয়েই সব কার্য করে।
☞ বেদ যদি নারীদের হৃদয়ঙ্গম করার ক্ষমতা না থাকত যেমটা ভাগবতে বলা হয়েছে, তাহলে বেদে নারীকে উদেশ্য করে কোন বাণী থাকত না। কারণ নারীদের তো বেদ হৃদয়ঙ্গম করার ক্ষমতা নাই তাহলে, নারীকে উদ্দেশ্য করে বেদে বাণী বা নির্দেশ কিভাবে থাকবে? কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে নারীকে উদ্দেশ্য করে বেদে অনেক বাণী আছে। যেমন-
❏ সম্রাজ্ঞী —
যথা সিন্ধুর্ণদীনাং সাম্রাজ্যং সুষুবে বৃষা।
এবা ত্বং সম্রাজ্ঞ্যেধি পত্যুরস্তং পরেত্য।।
➢ অথর্ব্ববেদ ১৪/১/৪৩।
বঙ্গানুবাদঃ হে বধূ! যেমন বলবান সমুদ্র নদী সমূহের উপর সাম্রাজ্য স্থাপন করিয়াছে তুমিও তেমন পতিগৃহে গিয়া সম্রাজ্ঞী হইয়া থাক।
❏ পতিগৃহ —
সম্রাজ্ঞ্যেধি শ্বশুরেষু সম্রাজ্ঞ্যুত দেবৃষু।
ননান্দুঃ সম্রাজ্ঞ্যেধি সম্রাজ্ঞ্যুত শ্বশ্ব্রাঃ।।
➢ অথর্ব্ববেদ ১৪/১/৪৪।
বঙ্গানুবাদঃ শ্বশুরদের মধ্যে এবং দেবরদের মধ্যে, ননদ ও শাশুড়ীদের সঙ্গে মিলিয়া সম্রাজ্ঞী হইয়া থাক।
❏ সুমঙ্গলী —
সুমঙ্গলী প্রতরণী গৃহাণাং সুশেবাপত্যে শ্বশুরায় শংভুঃ। স্যোনা শ্বশ্ব্রৈ প্র গৃহান্ বিশেমান্।।
➢ অথর্ব্ববেদ ১৪/২/২৬।
বঙ্গানুবাদঃ হে বধু! কল্যাণময়ী, গৃহের শোভাবর্দ্ধনকারিণী, পতিসেবা পরায়ণা, শ্বশুরের শান্তিদায়িনী, শ্বাশুড়ীর আনন্দ দায়িনী! গৃহকার্যে নিপূণা হও।
অতএব স্ত্রী, শূদ্র সকলের বেদ হৃদয়ঙ্গম করার, বুঝার ক্ষমতা আছে এবং সকলে বেদ অধ্যয়ন করতে পারবে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে......
☞ আমাদের কোনটা গ্রহণ করা উচিত? বেদ নাকি ভাগবত?
☞ ব্যাসদেব যদি শ্রীমদ্ভাগবত রচনা করতেন তাহলে তিনি এই বেদ বিরোধী কথা বল্লেন কিভাবে?
তার কারণ হচ্ছে ভাগবত ব্যাসদেব রচিত নয়।
যদি ভাগবতের কথা সত্যি বলে ধরে নি; অর্থাৎ স্ত্রী,শূদ্রের বেদ বুঝার ক্ষমতা নাই তাই তাদের জন্য মহাভারত রচনা করা হয়েছে।
☞ তাহলে, মহাভারতের যুগের আগেও স্ত্রী,শূদ্র ছিল কিন্তু তখন তাদের উদ্ধারের জন্য কি করা হয়েছিল? তারা ও যাতে তাদের জীবনের পরম উদ্দেশ্য লাভে সমর্থ হতে পারে সে জন্য কি করা হয়েছিল?
Comments
Post a Comment