কচ ও দেবযানী
আমি বর দিনু, দেবী, তুমি সুখী হবে।
ভুলে যাবে সর্বগ্লানি বিপুল গৌরবে।”
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
===================
ভালবাসার গল্পগুলো আমাদের শিখিয়েছেন পৌরাণিক কাহিনী গুলো । ভালবাসা’তে ত্যাগ বলে একটা কথা আছে তাও আমরা এই সব কাহিনী থেকেই শিখেছি।আবার ত্রিমাত্রিক/ত্রিভুজ প্রেমও আমরা শিখেছি পৌরানিক কাহিনী থেকেই ।
একবার দানবরা দেবতাদের কাছে যুদ্ধে হেরে যায়। তখন দৈত্যগুরু শুক্রাচার্য রাগে-ক্ষোভে দেবতাদের প্রতি প্রতিশোধ নেবার জন্য প্রস্তুত হন এবং কৈলাসে গিয়ে দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনা করতে থকেন। দানবরাজও মনে মনে ভাবেন, যদি শিবকে একবার তপস্যায় তুষ্ট করা যায়, তাহলে সকল শক্তি করতলগত হবে। তাই দৈত্যাচার্য শুক্র সদাশিবের ধ্যানে গভীরভাবে মগ্ন হলেন। কিন্তু দেবরাজ ইন্দ্র গোপনসূত্রে এ খবর পেয়ে যান। কি বিপদ! মহাদেব যদি একবার দৈত্যকে বর দেন, তাহলে তাঁকে যুদ্ধে হারায় কার সাধ্য? না যে কোনো প্রকারে তাঁর এ ধ্যান ভাঙাতেই হবে! নইলে দেবতাদের রক্ষা নেই!
তখন ইন্দ্রদেব ভেবে-চিন্তে ঠিক করেন, তাঁর কন্যা জয়ন্তীকে পাঠাবেন শুক্রাচার্যের সেবিকা হিসাবে, যাতে তাঁর সকল তপস্যা ভঙ্গ হয়। এ প্রস্তাবে দেবী জয়ন্তী গররাজী হন। অবশ্য অবশেষে পিত্রাদেশ লঙ্ঘন না করে দেবী জয়ন্তী দৈত্যগুরুর সেবা করতে সম্মত হন। কিন্তু জয়ন্তী পিতৃনির্দেশ মতো শুক্রাচার্যের তপস্যা পণ্ড না করে, তাঁর সাধ্য-সাধনায় সহায়ক সেবিকার কাজে লিপ্ত হন, তাতে শুক্রের সাধনায় বাধাস্বরূপ না হয়ে বিজয়ের পথ আরো সুগম হয়। শুক্রাচার্যের সাধনায় সন্তুষ্ট হয়ে শিব তাঁকে বর দেন-যুদ্ধে বিজয়ী হও। সে যুদ্ধে দেবতাদের পরাজয় ঘটে।
শেষ পর্যন্ত জয়ন্তীর সহযোগীতায় দৈত্যদের জয় হয়েছিল। স্বয়ং দেবরাজ ইন্দ্র যে জয়ের বিপক্ষে ছিলেন, দেবী জয়ন্তীর কৃপায় সে জয়কে তারা করতলগত করেছিল। কারোর সাধ্য ছিল না তাদের পরাজিত করে।
তারপর অবশ্য জয়ন্তীর ইচ্ছানুসারে শুক্রাচার্য তাঁকে পত্নী হিসেবে গ্রহণ করেন এবং দশ বত্সরকাল উভয়ে সুখে ও শান্তিতে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি দেবকুলে জন্মগ্রহণ করলেও দৈত্যের ঘরণী ছিলেন। এই সময় তাঁদের (জয়ন্তী + শুক্র) দেবযানী নামে এক কন্যা হয়।
কচ ও দেবযানী
==========
দেবাসুরদের মধ্যে সব সময় মহাযুদ্ধ লেগেই থাকত, তখন সেইকারনে তারা আলোচনা করে নিজেদের মনমত পুরোহিত নিয়োগ করলেন। দেবতাদের পুরোহিত হলেন বৃহস্পতি। অন্যদিকে দানবদের ভার্গব তথা ভৃগুপুত্র শুক্রাচার্য।
যুদ্ধে যত দৈত্যবধ হয় শুক্রের মন্ত্রে সকলেই বেঁচে ওঠে। শুক্রাচার্যের সঞ্জীবনী মন্ত্রের প্রভাবে দানবদের যত মৃত্যু হয় তত তারা বেঁচে ওঠে। এদিকে দেবতারা যুদ্ধে নিহত হলে অঙ্গীরা পুত্র বৃহস্পতি তাদের বাঁচাতে পারেন না।
শুক্রের ক্ষমতায় দেবতারা চিন্তিত হলেন। কচ নামে বৃহস্পতির এক পুত্র ছিল। সকলে তাকে শুক্রের কাছে সেই গুপ্তমন্ত্র শিখতে পাঠালেন।
বললেন –তুমি অসুররাজ বৃষপর্বার কাছে যাও, সেখানে শুক্রাচার্যকে পাবে। শুক্রের প্রিয়কন্যা দেবযানীকে যদি সন্তুষ্ট করতে পার তবে নিশ্চয় মৃতসঞ্জীবনী বিদ্যা লাভ করবে।
বৃষপর্বপুরে শুক্রের বাস। শিষ্য হয়ে কচ সেখানে উপস্থিত হলেন। শুক্রাচার্য তাঁর সুন্দরী কন্যা দেবযানীকে অসম্ভব স্নেহ করতেন।
কচ শুক্রের কাছে নিজের পরিচয় দিলেন। অঙ্গীরার পৌত্র তথা বৃহস্পতির পুত্ররূপে। তার প্রতি খুশি হয়ে শুক্রাচার্য তাকে শিষ্যরূপে গ্রহণ করলেন। তাকে সকল বিদ্যাপাঠ দিতে লাগলেন।
কচ নানা রূপে গুরুর সেবা করতে থাকেন এবং দেবযানীকেও তুষ্ট করতে থাকেন। কচ দেবযানীর সামনে হাতযোড় করে থাকেন, তিনি যা চান তাই সঙ্গে সঙ্গে করেন। নৃত্য, গীত, বাদ্যে সব সময় তাকে মনোরঞ্জন করেন। তার আজ্ঞার্থে পাশে পাশে থাকেন। এভাবে পঞ্চশত বৎসর অতিক্রান্ত হল।
কচ শুক্রের গাভীদের দেখাশোনা করতেন। গরুদের নিয়ে প্রতিদিন বনে যান। একদিন দৈত্যেরা তাকে দেখতে পেল। সকলে জানে সে দেবতাদের পুরোহিত বৃহস্পতির পুত্র এবং মায়া করে এসেছে সঞ্জীবনী মন্ত্র শিখতে।
তাই সকলে তাকে ধরে তীক্ষ্ণ খড়্গে খন্ড খন্ড করে বাঘকে সে মাংস খাওয়াল। এভাবে কচকে মেরে দৈত্যেরা ফিরে গেল। দিন শেষ হল, গাভীরা গৃহে ফিরল কিন্তু কচ আর এল না। দেবযানী চিন্তিত হলেন। তিনি পিতার কাছে কেঁদে কচকে বাঘ, সিংহ বা দৈত্যেরা মেরেছে- এই অভিযোগ জানালেন। কচকে ছাড়া তিনি যে বাঁচতে পারবেন না, তাও জানালেন।
শুক্র কন্যাকে কাঁদতে বারণ করলেন এবং ‘এসো কচ’ বলে তিনবার ডাকতেই সঞ্জীবনী মন্ত্রের প্রভাবে কচ শুক্রের সামনে এসে উপস্থিত হলেন।
তাকে দেখে দেবযানী আনন্দিত হলেন এবং তিনি এতক্ষণ কোথায় ছিলেন জানতে চাইলেন। কচ জানালেন দৈত্যেরা তাকে মেরে ফেলে এবং গুরু তাকে পুনরায় প্রাণদান করেন। দেবযানী পিতাকে দিয়ে কচের গাভী রক্ষণবেক্ষণের কার্য বন্ধ করালেন।
কিছুদিন পর দেবযানী কচকে দেবপূজার জন্য ফুল আনতে বললেন। ফুল আনতে গিয়ে কচ পুনরায় দৈত্যদের হাতে পড়লেন। এবার তাকে টুকরো টুকরো করে ঘৃতে ভাজা হল। তারা বিচার করল অন্য কেউ এ মাংস ভক্ষণ করলে তার নিস্তার নেই। কারণ শুক্রের মন্ত্রে কচ বাঁচবে কিন্তু ভক্ষকের প্রাণটি যাবে। শেষ পর্যন্ত সে মাংস সুরাসহ শুক্রাচার্যকেই খাইয়ে দেওয়া হলো।
এদিকে দেবযানী পুনরায় পিতার কাছে কচের পুষ্প আনতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার কথা জানালেন। তিনি আশঙ্কা করলেন দৈত্যরা পুনরায় কচকে হত্যা করেছে। শুক্রাচার্য কন্যাকে বোঝালেন মৃত জনের জন্য বিলাপ কোর না। ব্রহ্মা, ইন্দ্র, চন্দ্র, সূর্য-এদের মৃত্যু হলে তারাও আর বাঁচবে না। দেবযানী বৃথাই মৃত কচের জন্য ক্রন্দন করছেন।
কিন্তু দেবযানী কচকে না দেখতে পেলে মৃত্যুবরণ করবেন জানালেন। কন্যার কথায় শুক্র চিন্তিত হলেন। ধ্যানে বসে দেখলেন কচ তারই উদরে। তিনি কচকে কি ভাবে তার উদরে গেলেন জানতে চাইলেন। কচ সকল কথা জানালেন। শুক্র চিন্তিত হলেন। কারণ কচকে বাঁচালে তিনি মৃত্যুবরণ করবেন। আবার কচকে না বাঁচালে তার দ্বারা ব্রাহ্মণ হত্যা হয়।
শেষে শুক্র কচকে বললেন –বৃহস্পতি পুত্র, তুমি সিদ্ধিলাভ করেছ, দেবযানী তোমাকে স্নেহ করে। যদি তুমি কচরূপী ইন্দ্র না হও তবে আমার সঞ্জীবনী বিদ্যা লাভ কর। বৎস, তুমি পুত্ররূপে আমার উদর থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়ে আমাকে বাঁচিয়ে দিও, গুরুর নিকট বিদ্যা লাভ করে তোমার যেন ধর্মবুদ্ধি হয়। তিনি কচকে সঞ্জীবনী মন্ত্র শিক্ষা দিলেন।
কারণ কচ বাঁচলে তার মৃত্যু হবে। কচ পরে সেই মন্ত্রবলে গুরুকে বাঁচাবেন। এভাবে শুক্রের গর্ভে বসে কচ মন্ত্র অধ্যয়ন করলেন। শেষে শুক্র নিজের উদর চিরে শিষ্যকে মন্ত্রের বলে বাঁচালেন এবং নিজ়ে মৃত্যুবরণ করলেন। পরে কচ মন্ত্রের সাহায্যে গুরুকে প্রাণদান করলেন।
পরে শুক্র দৈত্যদের ডেকে বললেন তার শিষ্যকে কেউ হিংসা করবে না- এ বাক্য না শুনলে তার অশেষ দুঃখ আছে।
কচকে তিনি আশীর্বাদ করলেন যাতে নির্ভয়ে যেখানে খুশি বিচরণ করতে পারেন। এভাবে শুক্রের কাছে কচ সকল বিদ্যা অধ্যয়ন করলেন। শেষে দেবযানীর কাছে এসে প্রার্থনা করলেন নিজের দেশে যাওয়ার অনুমতি দিতে। দেবযানী বিষণ্ণ হলেন। কচকে ডেকে তাকে বিবাহ করতে অনুরোধ করলেন।
কচ একথায় বিস্মিত হলেন। কারণ গুরুকন্যা তার কাছে ভগিনীর সমান। দেবযানী বললেন – তোমাকে আমার ভাল লেগেছে। তাছাড়া আমার জন্যই তুমি বার বার মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এসেছো। এখন আমায় এভাবে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত নয়। কচ চিন্তিত হলেন। তিনি দেবযানীকে বোঝাতে চাইলেন।
বললেন –দেবযানী, প্রসন্ন হও, তুমি আমার কাছে গুরুরও অধিক। তোমার যেখানে উৎপত্তি, শুক্রাচার্যের সেই দেহের মধ্যে আমিও বাস করেছি। ধর্মত তুমি আমার ভগিনী। অতএব আর ওরূপ কথা বলো না। তোমাদের গৃহে আমি সুখে বাস করেছি, এখন যাবার অনুমতি দাও, আশীর্বাদ করো, সাবধানে আমার গুরুদেবের সেবা করো।
একথা শুনে দেবযানী ক্রোধিত হলেন। তিনি অভিশাপ দিলেন, নারী হয়ে তিনি বারবার অনুরোধ করলেন কচ তাও কথা রাখলেন না। তাই তার পিতার কাছ থেকে কচ যত বিদ্যা শিখেছেন সব নিষ্ফল হবে। দেবযানীর বাক্যে কচ ব্যাথিত হলেন। বললেন, বিনা অপরাধে তাকে দেবযানী এত বড় অভিশাপ দিলেন। কামে উত্তেজিত হয়ে তিনি কচকে অভিশাপ দিলেন। তাই তাকেও শাপ নিতে হবে।
কচ দেবযানীকে অভিশাপ দিলেন ব্রাহ্মণ শ্রেষ্ঠ শুক্রের কন্যা হয়ে তাকে ক্ষত্রিয়ের স্ত্রী হতে হবে। দেবযানীর শাপও তার লাগবে। কচ প্রত্যক্ষ ভাবে কোন বিদ্যা প্রয়োগ করতে পারবেন না। তবে তার শিষ্যরা ফলদায়ী হবেন।
কবিগুরু এখানে কচ কতৃক দেবযানীকে অভিশাপের পরিবর্তে আশির্বাদ রুপে কল্পনা করেছেন ।
আমি বর দিনু, দেবী, তুমি সুখী হবে।
ভুলে যাবে সর্বগ্লানি বিপুল গৌরবে।”
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
সত্যিই দেবযানী সব ভুলে গিয়েছিলেন । জানতে চাইলে পড়ের গল্পটি পড়ুন ।
এই বলে কচ ইন্দ্রের নগরে উপস্থিত হলেন। কচকে দেখে দেবতারা আনন্দিত হলেন। তার কাছ থেকে দেবযানীর সকল কথা শুনলেন। নিশঙ্ক হয়ে দেবতারা আবার যুদ্ধে উপনীত হলেন। দেব-দানবের সে যুদ্ধের বর্ণনা অবর্ণনীয়ঃ
যাযাতি , দেবযানী ও শর্মিষ্ঠার ত্রিভূজ প্রেমঃ
=======================
শর্মিষ্ঠা ছিলেন অসুর অধিপতি বৃষপর্বার কন্যা। দুজন সমবয়সী হওয়ায় উভয়ের ভিতর বন্ধুত্ব গড়ে উঠলেও, দেবযানী দৈত্যদের গুরু শুক্রাচার্যের প্রথমা কন্যা হিসাবে নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করতেন। এই শ্রেষ্ঠত্ববোধ থেকে দেবযানী ও শর্মিষ্ঠার বিবাদের সূত্রপাত হয়েছিল। মৃতসঞ্জীবনী বিদ্যা লাভ করে কচ স্বর্গে গেলে, দেবতারা ইন্দ্রকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। ইন্দ্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মর্তে নেমে এলেন। বৃষপর্বার রাজ্যের দিকে কিছুদূর আসার পর ইনি দেখলেন যে- একটি সরোবরের পারে, দেবযানী ও শর্মিষ্ঠা তাঁদের সখীদের নিয়ে জলবিহার করছেন। ইন্দ্র আরও লক্ষ্য করলেন যে, এঁরা সবাই কাপড় খুলে রেখে নগ্ন অবস্থায় জলে নেমেছে। এরপর বাতাসের রূপ ধরে ইন্দ্র সকলের কাপড় একত্রিত করে দেন। স্নান শেষে সকলে পাড়ে উঠলে, শর্মিষ্ঠা ভুল করে দেবযানীর কাপড় গ্রহণ করেন। এতে দেবযানী অত্যন্ত রুষ্ট হয়ে কটুবাক্য দ্বারা শর্মিষ্ঠাকে অপমান করেন। শর্মিষ্ঠাও সমভাবে এর উত্তর দেন। বিষয়টি ক্রমে ক্রমে তীব্র বিবাদে পরিণত হলে, শর্মিষ্ঠা ক্রোধে অধীর হয়ে দেবযানীকে এক কুপের মধ্যে নিক্ষেপ করে চলে যান। এই সময়ে রাজা যযাতি মৃগয়ায় এসেছিলেন। ইনি পিপাসিত হয়ে জলের খোঁজ করতে করতে, কূপে পতিত দেবযানীকে দেখতে পান। দেবযানীর কূপে পতিত হওয়ার কারণ অবগত হয়ে, যযাতি তাঁকে কূপ থেকে উদ্ধার করেন।
এরপর দেবযানী তাঁর ঘূর্ণিকা নামক এক দাসীর দ্বারা শুক্রাচার্যের কাছে খবর পাঠান। শুক্রাচার্য বনে এসে দেবযানীর কাছে সকল বিষয় জানতে পেরে, বৃষপর্বার দরবারে আসেন এবং বৃষপর্বার সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। বৃষপর্বা সকল বিষয় শুনে দুঃখিত হয়ে শুক্রাচার্যের ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এরপর শুক্রাচার্য বৃষপর্বাকে বলেন যে, তিনি দেবযানীকে কোনক্রমে সন্তুষ্ট করলেই তিনি ক্ষমা করবেন। বৃষপর্বা দেবযানীর নিকট উপস্থিত হলে দেবযানী বলেন, সহস্র কন্যার সহিত শর্মিষ্ঠা আমার দাসী হোক এবং আমার বিবাহ হলে তারা আমার সঙ্গে স্বামীগৃহে যাক। শুক্রাচার্যের ক্রোধ নিবারণের জন্যে এবং পিতার কল্যাণের জন্য, শর্মিষ্ঠা এই দাসীত্ব স্বীকার করে নেন।
দেবযানী ও যযাতির বিবাহ : কিছুদিন পর দেবযানী ও শর্মিষ্ঠা ভ্রমণ করার জন্য নিকটস্থ বনে যান। এই সময় যযাতিও উক্ত বনে মৃগয়ায় আসেন। ইনি পিপাসার্ত হয়ে জল খুঁজতে খুঁজতে দেবযানীর দেখা পান। দেবযানীর সাথে কথোপকথনের মধ্য দিয়ে, উভয়ে উভয়ের পরিচয় লাভ করেন। এই সময় দেবযানী জানতে পারেন যে, কূপ থেকে এই ব্যক্তিই তাঁকে উদ্ধার করেছিলেন। পরে দেবযানী যযাতীকে স্বামী হিসাবে পাবার ইচ্ছা করলেও, যযাতি শুক্রাচার্যের অভিশাপের ভয়ে রাজী হলেন না। এরপর দেবযানী তাঁর দাসী ঘূর্ণিকে পাঠিয়ে শুক্রাচার্যকে উক্ত বনে আসার অনুরোধ করেন। শুক্রাচার্য উক্ত বনে এলে, দেবযানী যযাতির পরিচয় দিয়ে তাঁকে স্বামী হিসাবে পাবার কথা ব্যক্ত করেন। এরপর শুক্রাচার্য এই বিবাহে সম্মতি দেন। একই সাথে শর্মিষ্ঠাকে কখনো বিবাহ না করার নির্দেশ দেন। এরপর যযাতি দেবযানীকে বিবাহ করেন এবং শর্মিষ্ঠা ও তাঁর দুই সহস্র দাসী নিয়ে রাজধানীতে ফিরে আসেন।
যযাতি ও দেবযানীর সন্তান লাভ : রাজধানীতে ফিরে, দেবযানীকে অন্তঃপুরে নিয়ে গেলেন। পক্ষান্তরে শর্মিষ্ঠর জন্য একটি পৃথক বাড়ি তৈরি করে থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন। এইভাবে এক হাজার বত্সর অতিবাহিত হয়। এই সময় যযাতির ঔরসে দেবযানী একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেন। এর নাম ছিল যদু।
যযাতি-শর্মিষ্ঠার গুপ্তপ্রণয় ও সন্তান লাভ : ইতোমধ্যে যৌবনের কামনা পরিতৃপ্তি ও সন্তান লাভের আশায় শর্মিষ্ঠা অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন। সেই কারণে একবার যযাতিকে একাকী পেয়ে তাঁর কাছে প্রেম নিবেদন করেন। যযাতি প্রথমাবস্থায় এই আবেদন এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করলেও, শেষ পর্যন্ত শর্মিষ্ঠার সাথে মিলিত হন। এই মিলনের ফলে শর্মিষ্ঠা দ্রুহ্য নামক একটি পুত্র লাভ করেন।
দেবযানী শর্মিষ্ঠার সন্তান লাভের সংবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে, শর্মিষ্ঠা একজন কল্পিত ঋষির সাথে মিলনের কথা বলে দেবযানীকে আশ্বস্ত করেন। এরপর দেবযানীর গর্ভে তুর্বসু নামে অপর একটি পুত্র জন্মলাভ করে। একই সময়ের ভিতর শর্মিষ্ঠা অনু ও পুরু নামক দুটি সন্তানের জন্ম দেন।
একদিন দেবযানী শর্মিষ্ঠার পুত্রদের কাছে তাঁদের পিতার নাম জিজ্ঞাসা করায়, পুত্ররা যযাতিকে পিতা হিসাবে দেখান। এরপর দেবযানী শর্মিষ্ঠার কাছ থেকে প্রকৃত বিষয় জেনে, কাঁদতে কাঁদতে শুক্রাচার্যের কাছে যান এবং সকল বিষয় খুলে বলেন। শুক্রাচার্য সকল বিষয় শুনে যযাতিকে অভিসক্পাত দেন- তুমি জরাগ্রস্ত হও। পরে এই শাপ প্রত্যাহারের জন্য যযাতি বহু অনুনয় করলে শুক্রাচার্য বলেন, তুমি ইচ্ছা করলে তোমার জরা অন্যকে দান করতে পারবে। যযাতি বলেন, আপনি অনুমতি দিন যে, যে পুত্র আমাকে তার যৌবন দেবে, সেই আমার রাজ্য পাবে। শুক্রচার্য বললেন, তাই হবে। এরপর দেবযানী ও শর্মিষ্ঠার গর্ভজাত সকল পুত্রকে যযাতি তাঁর জরা গ্রহণ করে তার পরিবর্তে তাদের যৌবন দিতে বললেন, পুরু জরা গ্রহণ করে পিতাকে নিজের যৌবন ভোগ করতে দিলেন। অন্যান্য পুত্ররা এতে রাজী না হওয়ায়, যযাতি তাঁদের অভিশাপ দেন।
যৌবন লাভ করে, যযাতি ১০০০ বত্সর উভয় স্ত্রীর সাথে ইন্দ্রিয়সম্ভোগ করেন। এরপর কুবেরের চৈত্ররথ নামক উদ্যানে বিশ্বাচী নামক অপ্সরাকে দীর্ঘকাল ধরে ভোগ করেন। এরপরও তাঁর কামের উপশম না হলে, ইনি উপলব্ধি করলেন যে, পৃথিবীতে সমস্ত ধন ও সমস্ত রমণী উপভোগ করলেও তিনি তৃপ্ত হবেন না। তাই তিনি ভোগ-তৃষ্ণা ত্যাগ করে পুরুকে তাঁর যৌবন ফিরিয়ে দেন। এরপর ইনি পুরুকে রাজপদে অভিষিক্ত করে বানপ্রস্থ অবলম্বনপূর্বক কঠোর তপস্যা করেন। এই কারণে, মৃত্যুর পরে কিছুকাল তিনি স্বর্গসুখ ভোগ করেন। ইনি অহঙ্কারবশত নিজেকে শ্রেষ্ঠ ধার্মিক মনে করায় ইন্দ্রের অভিশাপে, স্বর্গভ্রষ্ট হয়ে পতিত হতে থাকেন। পথের মধ্যে আকাশের যে স্থানে তাঁর দৌহিত্র অষ্টক, প্রতর্দন, বসুমনা ও শিবি বাস করছিলেন, সেখানে উপস্থিত হওয়ায় এঁরা যযাতির পরিচয় পেয়ে তাঁকে তাঁদের পুণ্যবলে আবার স্বর্গে প্রেরণ করেন।
তপতী সংবরণোপাখ্যানঃ
=============
গন্ধর্ব বলেন– আপনি জীবন দিলেন, তার পরিবর্তে আমি চাক্ষুষী বিদ্যা দিচ্ছি। আমি জানি আপনার জন্মকথা, আপনি তপতীর গর্ভে জন্ম নিয়েছেন। আপনাকে পুরুষক্রমে ভাল ভাবে জানি। দ্রোণের মত গুরুর প্রিয় শিষ্য জেনেও আপনাদের পথ রোধ করলাম রাত্রে। তারও বিশেষ কারণ ছিল। সে সময় আমি স্ত্রীদের নিয়ে ক্রীড়ায় রত ছিলাম। স্ত্রীসঙ্গ ক্রীড়াকে অবজ্ঞা করা উচিত নয়। সে কারণে ক্রুদ্ধ হয়ে আপনাদের রোধ করি। আপনারা জিতেন্দ্রিয় ধার্মিক, সে কারণে আমার বিরুদ্ধে জয়লাভ করলেন। আপনার আগ্নেয়অস্ত্র এবং চিরস্থায়ী বন্ধুত্ব আমাকে দিন।
অর্জুন গন্ধর্বের প্রার্থনা অনুসারে চাক্ষুসীবিদ্যা ও অশ্ব নিলেন এবং আগ্নেয়াস্ত্র দান করে বন্ধু হলেন।
তিনি আবার প্রশ্ন করলেন– রাত্রে আমাদের এভাবে পথ আগলে আপনি কি বুঝাতে চাইলেন !
গন্ধর্ব বলেন– আপনাদের অগ্নিহোত্র(প্রত্যহ যজ্ঞকারী ব্রাহ্মণের করণীয় হোম) নেই। ব্রাহ্মণকে সঙ্গে নিয়েও চলেন না। সে জন্যেও আমি পথ রোধ করেছিলাম। হে, তাপত্য! কল্যাণপ্রাপ্তির জন্য পুরোহিত নিয়োগ করা কর্তব্য। পুরোহিত না থাকলে কোনও রাজা কেবল বীরত্ব বা আভিজাত্যের প্রভাবে রাজ্য জয় করতে পারেন না। ব্রাহ্মণকে পুরোভাগে রাখলে চিরকাল রাজ্যপালন করা যায়।
অর্জুন বলেন– আপনি আমাকে বারংবার তাপত্য বলছেন কেন! তপতী কে! আমরা তো কৌন্তেয়।
গন্ধর্ব বলেন– তবে শুনুন কেন আপনাদের তাপত্য বলে ডেকেছি। নিজেদের পূর্ববংশের কথা মন দিয়ে শুনুন।
যিনি নিজ তেজে সমস্ত আকাশ ব্যাপ্ত করে থাকেন সেই সূর্যদেবের এক কন্যা ছিলেন তপতী। ইনি সাবিত্রীর কনিষ্ঠা। রূপে, গুণে তপতী ছিলেন অতুলনীয়া। সূর্যদেব তার উপযুক্ত পাত্র খুঁজে পেলেন না। কন্যার কারণে তিনি চিন্তিত ছিলেন। সে সময় আপনাদের পূর্বতন পূর্বপুরুষ কুরুবংশীয় সংবরণ রাজা, যিনি প্রতিদিন উদয়কালে সূর্যের আরাধনা করতেন। তিনি ধার্মিক, রূপবান ও বিখ্যাত বংশের রাজা- সে জন্য সূর্য তাকেই কন্যা তপতীকে দিতে ইচ্ছে করলেন।
সূর্যদেব
একদিন সংবরণ মৃগয়া করতে গিয়ে একা একা অশ্বের পিঠে চড়ে বহু বনে বনে ভ্রমণ করলেন। পথশ্রমে ক্লান্ত অশ্বটি জলের অভাবে প্রাণ হারাল। অশ্বহীন রাজা পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করতে লাগলেন। দিক নির্ণয় করতে পর্বতের উপর উঠলেন। সেখানে এক অপরূপা সুন্দরী কন্যাকে দেখে মুগ্ধ হলেন। কন্যার রূপের তেজে যেন পর্বত দীপ্ত হচ্ছিল। রাজা খুব খুশি হলেন। নিজেকে ভাগ্যবান ভাবলেন এমন কন্যার দর্শন পেয়ে। রাজার মনে হল এই কন্যার সমান পৃথিবীতে আর কেউ নেই। তিনি পুতুলের মত স্থির চিত্তে কন্যাকে দর্শন করতে লাগলেন।
অনেক্ষণ পর কামে পীড়িত রাজা কন্যার কাছে গিয়ে মৃদু মধুর কন্ঠে বলেন– হে মন্মথমোহিনী, এই নির্জন বনে তুমি একা কি করছো! পদ্মের মত কোমল তোমার পদ যুগল। তার উপর স্থাপিত তোমার কদলীবৃক্ষের ন্যায় সুপুষ্ট ও সুন্দর ঊরু যুগল। নিতম্ব ঘটের মত সুন্দর, কোমরটি সরু, চক্ষু দুটি ছুড়ির মত আঘাত হানে, তার উপর কামচাপা ভুরু, কামপূর্ণ অতুল যুগল স্তন। সাপের মত বাহু দুটি কোমরের পাশে সরলভাবে অবস্থিত। নিখুঁত তোমার অঙ্গ দেখে রত্নালঙ্কার পরাতে মন চায়। তুমি কে, দেবী! দেবকন্যা, অপ্সরী, নাগিনী, মানবী নাকি কিন্নরী! এই চোখে কত দেখলাম, কানে কত শুনলাম- কিন্তু এমন অপরূপার কথা কেউ জানে না। কে তুমি, কার কন্যা। দয়া করে আমাকে বল। কি কারণে এই পর্বতে একা আছো! চাতক পাখির মত আমার কান তোমার মধুর ভাষণ শুনতে আগ্রহী। আমায় কিছু বলে তৃপ্ত কর।
এভাবে রাজা নানা ভাবে কন্যাকে বিনয় দেখালেন।
কিন্তু কন্যা কিছু না বলেই অদৃশ্য হলেন। মেঘের মধ্যে যেমন বিদ্যুৎ লুকায়, কন্যাও কোথায় লুকালো! রাজা উন্মাদের মত চারদিকে কন্যাকে খুঁজতে থাকেন। তাকে দেখতে না পেয়ে রাজা অচেতন হয়ে পরে গেলেন। এভাবে রাজা সংবরণ মাটিতে গড়াগড়ি দিতে লাগলেন।
অন্তরীক্ষ থেকে সেই কন্যা-তপতী রাজা সংবরণের এ অবস্থা দেখে দুঃখিত হলেন। রাজার কাছে এসে বলেন– নৃপ শ্রেষ্ঠ, উঠুন! মোহগ্রস্থ হবেন না। নিজের ঘরে ফিরে যান।
সংবরণ অস্পষ্ট বাক্যে অনুনয় করে বলেন– সুন্দরী, তুমি আমাকে ভজনা কর, নয়ত আমি প্রাণ ত্যাগ করবো। তুমি প্রসন্ন হও। আমি তোমার অনুগত ভক্ত। আমার প্রতি দয়া হলে আমায় আলিঙ্গন করে আমার প্রাণ রাখ।
কন্যা বলেন– রাজা তা হয় না। আমার পিতার কাছে আমার জন্য প্রার্থনা করুন। আমার পরিচয় দিচ্ছি। আমি সূর্যকন্যা তপতী। আপনি সূর্যের আরাধনা করে তাকে প্রীত করুন। তিনি আমাকে আপনার হাতে অর্পন করলে তবেই আমায় নিজের করে পাওয়া সম্ভব।
এত বলে তপতী অদৃশ্য হলেন। সংবরন রাজা আবার মুর্ছিত হয়ে পড়ে গেলেন। অমাত্য ও অনুচরেরা অনেক খুঁজে রাজাকে দেখতে পেলেন এবং তার মাথায় পদ্মসুরভিত শীতল জল ঢালতে লাগলেন। রাজা জ্ঞান পেয়ে চতুরদিকে তপতীকে খুঁজতে লাগলেন। সৈন্যসামন্ত দেখে কিছু বললেন না। এক বৃদ্ধ মন্ত্রীকে সঙ্গে রেখে সকলকে রাজ্যে ফেরত পাঠালেন।
এরপর রাজা সূর্যের উদ্দেশ্যে কঠোর তপস্যা শুরু করলেন। এক পায়ে অধোমুখে উপবাসে সূর্যের উদ্দেশ্যে একচিত্তে তপস্যা করতে লাগলেন।
শেষে অনেক ভেবে পুরোহিত বশিষ্ঠ মুনিকে স্মরণ করলেন। বশিষ্ঠ মুনি রাজার সামনে উপস্থিত হলেন।
তিনি যোগবলে সমস্ত জেনে কিছুক্ষণ সংবরণের সঙ্গে কথা বলে উর্ধ্বে চলে গেলেন। দ্বিতীয় সূর্যের মত তার তেজ। সূর্য কৃতাঞ্জলি করে তাকে প্রণাম করলেন। কি প্রয়োজনে মুনি তার কাছে এসেছেন জানতে চাইলেন।
মুনিও সূর্যদেবকে প্রণাম করে জানালেন- আপনার তপতী নামের কন্যাকে আমি মহারাজ সংবরণের জন্য প্রার্থনা করছি। তিনি রূপে, গুণে ভুবন বিখ্যাত। তিনি আপনারও অনুগত।
সূর্যদেব খুশি হয়ে সম্মত জানিয়ে বলেন– মুনিদের মধ্যে আপনি প্রধান, ক্ষত্রিয়ের মধ্যে সংবরণ রাজ শ্রেষ্ঠ এবং কন্যাদের মধ্যে তপতীর সমান কেউ নেই। তিন স্থানের তিন শ্রেষ্ঠ!
মুনি শ্রেষ্ঠের বচন তিনি ফেলবেন না। এত বলে কন্যা তপতীকে মুনির হাতে সমর্পণ করলেন। কন্যাকে নিয়ে মুনি রাজা সংবরণের কাছে এলেন। তপতীকে দেখে রাজা তপ ত্যাগ করলেন। যোড়হাতে রাজা বশিষ্ঠ মুনির যপ করেন। ঋষি তপতী ও সংবরণের বিবাহ দেন। পরে বশিষ্ঠ মুনি নিজের আশ্রমে ফিরে যান। মুনির আজ্ঞা নিয়ে রাজা সেই মহাবনে সুখে বাস করতে লাগলেন। রাজার সাথে যে বৃদ্ধ মন্ত্রী ছিলেন তাকে রাজা রাজ্যভার দিয়ে দেশে পাঠালেন। পর্বতের উপর রাজা স্ত্রীর সাথে বারো বছর আনন্দে কাটালেন।
সেই বারো বছর রাজ্যে এক বিন্দু বৃষ্টি হল না। বৃক্ষ, শষ্য সব পুড়ে ভস্ম হল। ঘোড়া, পাখি সব মরে গেল। রাজ্যে দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। চারদিকে চুরি, ডাকাতি শুরু হল। স্থাবর, অস্থাবর ও প্রজা ক্ষয় পেতে লাগল। মানুষ শবের মত হতে লাগল। হীনশক্তি হয়ে স্থানে স্থানে পরে রইল। চারদিকে হাহাকার রব শুরু হল। প্রমাদ গুণে মানুষ দেশান্তরি হতে লাগলো।
রাজ্যের এত কষ্টের কথা রাজা কিছুই জানলেন না। বশিষ্ঠ মুনি সে সময় দেশে এসে রাজ্যভঙ্গ হচ্ছে দেখে চিন্তিত হলেন। রাজাকে আনতে তিনি পর্বতে গেলেন।
সব জেনে রাজা সংবরণের অনুতাপ হল। তপতীকে নিয়ে দেশে ফিরে এলেন। রাজ্যে ফিরে তিনি যজ্ঞ করলেন। ইন্দ্রদেব সুখি হয়ে বৃষ্টি দান করলেন। পুনরায় ভূমিতে শস্য ফললো। পূর্বের মত সংবরণ রাজ্যকে প্রাণবন্ত করে তুললেন।
এ সময় তপতী গর্ভবতী হলেন। তপতীর পুত্র হলেন শ্রষ্ঠ কুরু। কুরুর খ্যাতি অবিসংবাদিত(সর্বসম্মত)। সে জন্যই তার কুলের নাম হল কুরুবংশ।
পুরোহিত বশিষ্ঠ মুনির সাহায্যেই রাজা সংবরণ ধর্ম, অর্থ, কাম পেলেন।
হে অর্জুন, এই তপতীর গর্ভজাত কুরুর বংশধর হলেন আপনারা পাঁচভাই। সে কারণে আমি আপনাদের তাপত্য সম্বোধন করেছিলাম।
বংশের পূর্বকথা শুনে অর্জুন হরষিত হলেন। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন– রাজা সংবরণকে রক্ষা করলেন যে শ্রেষ্ঠ পুরোহিত বশিষ্ঠ মুনি, তার সম্পর্কে কিছু বলুন।
গন্ধর্ব বলেন- বশিষ্ঠ মুনি বিখ্যাত তার তপস্যার জন্য। তার গুণ, কাজ বর্ণনাতিত। তিনি কাম ও ক্রোধকে জয় করতে পেরেছিলেন। বিশ্বামিত্র বহুবার তাকে বিরক্ত করলেও বশিষ্ঠ তাকে কিছু বলেননি। ইক্ষ্বাকু(বৈবস্বত মনুর পুত্র, সূর্যবংশীয় প্রথম রাজা) বংশের রাজা এঁনার বুদ্ধিবলেই নিষ্কন্টক বৈভব ভোগ করেন ভূমন্ডলে।
মহাভারতের কথা অমৃত সমান, কাশীরাম দাস কহে শুনে পুণ্যবান।
Comments
Post a Comment