মেয়েরা কেন নারায়ণ শিলা র পূজা দিতে পারে না ?
নারায়ণ শিলাঃ
=========
প্রশ্ণ হলো মেয়েরা কেন নারায়ণ শিলা র পূজা দিতে পারে না ?
===============================
ঠাকুর রামকৃষ্ণ বলছেন ,” পথে ঘাটে কত নুড়ি পড়ে থাকেরে , কোন নুড়িতে নারায়ণ থাকেন , তা কি কেউ বলতে পারেরে ? ।”
আসুন আমরা এই শীলার উৎপত্তি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি।
আজকের হিমালয় একসময়ে ছিল সমুদ্রগর্ভে।
আজ থেকে প্রায় তিন কোটি বছর আগে সেনোজয়িক কল্পে ইয়োসিন যুগের শেষ ভাগে, টেথিস সমুদ্র থেকে হিমালয় আস্তে আস্তে মাথা তুলতে শুরু করে আর তা শেষ হয় প্লাইস্টোসিন উপ-যুগে প্রায় এক কোটি বছর আগে। ফলে, এক মহা-অতীত কালের সামুদ্রিক পলিস্তর রূপান্তরিত হয়েছে আজকের হিমালয়ের শিলাস্তরে।
হিমালয়ের এই শিলাস্তর কে বলা হয় “স্পিতি” শেল। খুব সুক্ষ্ম দানা পলি অবক্ষেপ থেকে তৈরী হয়েছে বলে বিজারক পরিবেশে সৃষ্ট এই শেল এত তৈলাক্ত ও কালো। আজ থেকে আঠারো কোটি বছর আগে, জুরাসিক যুগে—যে সময়ে ডাঙ্গায় মানে পৃথিবীতে ডাইনোসরেরা রাজত্ব করছে – সেই সময়ে এই পলি অবক্ষেপ ঘটেছিলো। তার বহু বহু কোটি বছর পরে সমুদ্রগর্ভ থেকে জন্ম নিল হিমালয়। এর ফলে, আজকের হিমালয়ের চিরতুষারাবৃত
স্পিতি শেল শিলাস্তরে পাওয়া যায় জুরাসিক যুগের সামুদ্রিক জীবের প্রস্তরীভূত জীবাশ্ম। কালীগণ্ডকীর উৎপত্তিও সেই চিরতুষারাবৃত অঞ্চলেই।
জলের তীব্র স্রোতে ওই শিলাস্তরের ক্ষয় হচ্ছে। ধুয়ে মুছে ভেঙে নিয়ে আসছে বলে কালীগণ্ডকীর জলের রঙ এত কালো। আর ওই শিলাস্তরের খাঁজে লুকিয়ে থাকা জুরাসিক যুগের অজস্র প্রস্তরীভূত সামুদ্রিক জীবাশ্ম জলের স্রোতে বয়ে আসছে। এই অজস্র শিলাভূত জীবাশ্মর মধ্যে একমাত্র অ্যামনোয়ডিয়া
গোষ্ঠীর শিলাভূত জীবাশ্মই হল হিন্দুদের পরম পবিত্র শালগ্রাম শিলা বা নারায়ণ শিলা।
{জীবাশ্ম (ইংরেজি: Fossil) বলতে প্রাণী বা উদ্ভিদ পাথরে পরিণত হয়েছে এমন ধরনের বস্তুকে বোঝায়। প্রাগৈতিহাসিক
যুগের উদ্ভিদ ও প্রাণীর ধ্বংসাবশেষ তথা মৃতদেহের চিহ্ন পাওয়া যায় ভূগর্ভ কিংবা ভূ-পৃষ্ঠের কঠিন স্তরে সংরক্ষিত পাললিক শিলা অথবা যৌগিক পদার্থে মিশ্রিত ও রূপান্তরিত অবস্থায়। অধিকাংশ জীবিত প্রাণীকুলেরই
জীবাশ্ম সংগৃহীত হয়েছে। এছাড়াও, অনেক প্রজাতিরই জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়েছে যারা পৃথিবীতে বর্তমানে বিলুপ্ত। ৩৪০ কোটি বছর থেকে দশ হাজার বছর পূর্বেকার তুষার যুগের প্রাণী ও উদ্ভিদদেহের ধ্বংসাবশেষ জীবাশ্মরূপে সংরক্ষিত আছে। জীবাশ্মের আকার এককোষী ব্যাক্টেরিয়া থেকে বিশালাকৃতির ডাইনোসর ও অনেক মিটার লম্বা এবং কয়েক টন ওজনের গাছের মতো হতে পারে। সাধারণতঃ মৃত প্রাণীর অংশবিশেষ হিসেবে হাড় এবং দাঁত প্রায়শই বিচ্ছিন্ন জীবাশ্ম হিসেবে পাওয়া যায়।}
স্কন্দ পুরাণে ভগবান ব্রক্ষ্মা আর নারদ মুণির কথোপকথনের একটা অংশ আছে।সেখানে একটা শ্লোকে বলা হচ্ছে,
“স্ত্রীয়ো বা যদি বা শূদ্রা ব্রাহ্মণঃ ক্ষত্রিয়োঃ বৈষ্ণবম
পূজায়ীত্ত্ব শিলা চক্র লভন্তে শাশ্বতম পাদম”।।
স্ত্রী সহ সর্ব বর্নের মানুষ নারায়ন শিলা তে পূজা দিলে ঠাকুরের পদপাদ্মে স্থান পাবে ।
“প্রজন্ম থেকে প্রজন্মোন্তরে স্ত্রীরাই সকল সুখের মূল। কারণ, সন্তান উত্পাদন, ধর্ম পালন, পরিবারের পরিচর্যা, দাম্পত্য শান্তি এসব কাজ নারীদের দ্বারাই নিষ্পন্ন হয়”। (মনুসংহিতা ৯/২৮)
অন্যকথায়, মাতৃরূপে, কন্যারূপে, স্ত্রীরূপে, ভগ্নীরূপে কিংবা ধর্মকর্মে অংশীদাররূপে নারীরাই সকল কল্যাণের মূল উত্স।
“নারী ও পুরুষ একে ভিন্ন অপরে অসম্পূর্ণ। এজন্য বেদে বলা হয়েছে ধর্মকর্ম পত্নীর সাথে মিলিতভাবে কর্তব্য”। (মনুসংহিতা ৯/৯৬)
তাই যারা বেদ ও বৈদিক আচার অনুষ্ঠানে মহিলাদের অংশগ্রহণ অস্বীকার করেন তারা বৈদিক হিন্দু ধর্ম তথা মানবধর্ম বিরোধী।
প্রশ্ণ হলো মেয়েরা কেন নারায়ণ শিলা র পূজা দিতে পারে না ?
উত্তর = মেয়ে মানে প্রকৃতি। আমরা সবাই প্রকৃতি জাত। শালগ্রাম শিলা এটা একটা প্রাণীর ফসিল ( জীবাষ্ম ) ।নেপালের গন্ডকী নদীর তীরে এখনও শালগ্রাম শিলা পাওয়া যায়।আমরা জানি যে নারীকে প্রকৃতির অংশ ধরা হয়।সাংখ্য দর্শনে পুরুষ আর প্রকৃতি হিসাবেই সকল সৃষ্টিকে ভাগ করা হয়েছে।নারী প্রকৃতির অংশ হয়ে কীভাবেই বা একটা প্রকৃতিজাত বিষয়ের পুজো করতে পারে!এটা কোথাও গিয়ে যেন নিজেকে পুজো করারই সামিল।
Comments
Post a Comment