বিশ্বকর্মা

 

অপরাজিতা দৈনিক পত্রিকা



বলুন তো রাবণের লংকা পুরী কে বানিয়েছিলো ?

দুর্গা মাতার অলংকার কে বানিয়েছিলো ?

বলুনতো তিলোত্তমাকে কে বানিয়েছিলো ?

বলুনতো দেবতাদের অস্ত্র কে বানিয়েছিলো ?

এরকম অনেক বলুনতো উত্তর কিন্তু এক কথায় দেবতা বিশ্বকর্মা

বলুনতো তাজমহল কে বানিয়েছিলো ? এক কথায় বলে দিবেন সম্রাট শাহজাহান

উত্তরগুলো কতোখানি সত্য ?

লংকাপুরীই বলুন আর বৈদিক পূর্বসভ্যতার মহেঞ্জদার হরোপ্পা নগরী বলুন সব বানিয়েছিলো মানুষ তাজমহল বানিয়েছিলো এক দল মানুষ। যেহেতু আমরা মানুষ আর আমাদের মধ্যে হিংসার ছড়াছড়ি তাই অন্যকে কৃতিত্ব দিতে আমাদের কষ্ট হয় তাই কৃতিত্ব দিয়ে দেই এমন কাউকে যাকে ধরাও যায় না ছোঁয়াও যায় না

আজ শুক্রবার , সকালে ঘুম থেকে উঠে সেলুনে গিয়ে দেখলাম এইমাত্র রতন সেলুন খুলেছে কোন মতে ধুপ ধোঁয়া দিয়েছে গিয়ে বললাম রতন আমাদের কিছুক্ষনের মধ্যেই মাওয়া যেতে হবেরে , ইলিশ ভাজা খেতে , তাড়াতাড়ি সেভ করে দে গৌতম শুরু করল তার নিত্তনৈমিত্তিক কাজ মানুষকে সুন্দর বানানোর কারিগর। আমার পর দেলোয়ার এলো, বলল তাড়াতাড়ি ছেলেটার চুল কেটে দেতো ভাই , শুক্রবার ছাড়া সময় পাওয়া যায়না তারপরে এলেন আপনি রতনেরআর ফুসরত নেই কাজ আর কাজ কেউ একবার জিজ্ঞাসাও করছেনা , কিরে রতন সকালে খেয়েছিস ? কারণ সবার তাড়া আর সবাইকে সুন্দর বানানো দায়িত্ব এই রতনের

আগামী দু একদিন পর শুরু  হবে বিশ্বকর্মা ডেকোরেশনে কত তাড়া খাওয়া নেই দাওয়া নেই , ডেকোরেটারের দলের কত প্রচেষ্টা একটা সুন্দর ষ্ট্রেজ বা থিম উপহার দেওয়ার ডেকোরেশানের কাজ শেষ পূজা শুরু। কিন্তু সেই ডেকোরেটারের দলের মানুষগুলো কথা আর কারো মনে নেই

 

শিখাদিদির মেয়ের বিয়ে আগামী কাল স্বর্ণকারের ঘুম নেই সারা রাত কাজ করছে সকালে দিদির মেয়ের সব স্বর্ণের অলংকার ডেলিভারী দিতে হবে। পরের দিন আবার প্রতিমাদিদির বোনের বিয়ে সেখানে স্বর্ণ ডেলিভারী দিতে হবে। পরের দিন ফাতেমার বিয়ে সেখানেও স্বর্ণা অলংকার দিতে হবে। বাবা কমিশনার ঠিক সময়ে ডেলিভারী দিতে না পারলে , স্বর্ণকারের আস্ত থাকবেনা সবার বিয়ের স্বর্ণাঅলংকার ডেলিভারী দিচ্ছে এই বিশ্বকর্মা কাকা কিন্তু বিয়ে খাওয়া তার আর হয়ে উঠছেনা কারণ আগামী কাল আর একটি ডেলিভারি স্বর্ণালংকার গুলো পেয়ে শিখাদিদি তার মেয়ে খুব খুশী কিন্তু যার , এই খুশির জন্য অবদান , তার কথাটি একদম মনে নেই

 

সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি , সাইকেলের টায়ারে হাওয়া নেই শচীন দাকে সকাল বেলা ঘুম থেকে তুলে , হাওয়া দেওয়া মেশিন নিয়ে সাইকেলের টায়ারে পাম্প দেওয়া তারপরে প্রাইভেট পড়তে দে ছুট শচীন দাকে পয়সা দিয়েছিলাম ? মনে নেই তার মানে দেইনি

 

কয়েকদিন পর বিশ্বকর্মা পুজো প্রতিমা রং আগেই করে রেখেছে দিনেশ কাকা এখন শুধু চক্ষুদান করা বাকী তাই রাতে ঘুম নেই ১০০ প্রতিমা কয়েকদিন থেকে রাতের পর রাত জেগে চক্ষুরং করছে ভোর বেলা নৌকা করে প্রতিমা নিয়ে যেতে হবে বুড়িগংগার ধারে সেখানে হবে বেঁচা কেনা কত দামাদামী আরাধ্য দেবতা কিনবে , কিন্তু সেই দেবতা যে রাতের পর রাত জেগে বানিয়েছে , তাকে কয়েকটি টাকা কম দেওয়ার জন্য কত দামাদামি

 

এই যে আমাদের কে যারা নান্দনিক ভাবে উপস্থাপন করে বা আমাদেরকে যারা নান্দনিক সৌন্দর্য্য দেখিয়ে মুগ্ধ করে , তাদের প্রতি সন্মান দেওয়ার জন্যই এই বিশ্বকর্মা পুজা আমরা কি সেই মানুষগুলোকে এই পুজোর দিনে সন্মানিত করতে পারি ?

Comments

Popular posts from this blog

” জীবন প্রেমের ফষল। আর প্রেম হলো ”মা”।”