গণেশ
গণেশ
বৌদ্ধ ধর্মে বিনায়ককে আমরা
দেখতে পাই।
বিনায়কতেন বা বিনায়কাতেন
গণপতি, কাঙ্গিতেন, কাঙ্কিতেন, শতেন, তাইশতেন, তাইশ-কাঙ্গিতেন, তেনশন, কাঙ্গি-চিজাইতেন, শতেন-সামা, ভিনায়কাতেন বা জবিতেন জাপানী বৌদ্ধ ধর্মের শিঙ্গন ও তেন্দাই শাখার একজন তেন বা দেবতা।তিনি হিন্দু ধর্মের দেবতা গণেশের জাপানী রূপ বলে গণ্য করা হয়। কোনো কোনো পণ্ডিতের মতে তিনি বোধিসত্ত্ব অবলোকিতেশ্বরের রূপ।
বিনায়কাতেনকে বৌদ্ধ ধর্মের তান্ত্রিক শাখাসমূহের সাথে যুক্ত করা হয়।] যদিও তাকে হিন্দু গণেশের মতো হাতীর মাথাযুক্ত পুরুষ হিসাবে দেখানো হয়, তবে অধিকতর জনপ্রিয় রূপ হল পুরুষ ও মহিলার "দ্বৈত (শরীরযুক্ত) কাঙ্গিতেন"।তান্ত্রিক বৌদ্ধত্বে জনপ্রিয় বিনায়কাতেন সুখ - সমৃদ্ধির দাতা। তার দ্বৈত রূপকে জাপানী ভাষায় শশিন কাঙ্গিতেন বা শশিন বিনায়ক বলা হয়, চীনা ভাষায় কুয়ান শি ও সংস্কৃত ভাষায় নন্দিকেশ্বর।.
ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যে অনুষ্ঠিত গণেশ চতুর্থী গণেশের নামে উৎসর্গিত বৃহত্তম উৎসব। প্রতিবছর অগস্ট মাসের শেষে বা সেপ্টেম্বরের শুরুতে হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে ভাদ্রমাসের শুক্লাচতুর্থী তিথিতে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। দশদিন ধরে মহারাষ্ট্রে এই উৎসব চলে। অতঃপর অনন্ত চতুর্দশীর দিন প্রতিমা নিরঞ্জনের মাধ্যমে উৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটে। মহারাষ্ট্রে এই উৎসব পূর্বে ছিল পারিবারিক গণ্ডীতে সীমাবদ্ধ এক ক্ষুদ্র পর্বমাত্র। ১৮৯৩ সালে লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক এই উৎসবকে মহারাষ্ট্রের এক জাতীয় উৎসবে পরিণত করেন। তার উদ্দেশ্য ছিল হিন্দুধর্মের জাতিভেদের সংকীর্ণতা দূর করে ব্রিটিশ বিরোধী জাতীয় আন্দোলনকে সুসংবদ্ধ ও সংগঠিত করা। তিলকই প্রথম বারোয়ারি মণ্ডপে গণেশ প্রতিমা স্থাপন করেন ও দশদিন বাদে গণেশ বিসর্জনের প্রথার সূচনা করেন। আজও মহারাষ্ট্র ও সন্নিহিত অঞ্চলের লোকজন পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে এই উৎসব পালন করে থাকেন। মুম্বাই মহানগরীতে এই উৎসব সর্বাধিক জাঁকজমকের সহিত পালিত হয়।
একদন্তং মহাকায়ং লম্বোদরং গজাননং।
বিঘ্ননাশকরং দেবং হেরম্বং প্রণমাম্যহম্।। (গণেশপ্রণামঃ)
অর্থাৎ, “যিনি একদন্ত, মহাকায়, লম্বোদর, গজানন এবং বিঘ্ননাশকারী সেই হেরম্বদেবকে আমি প্রণাম করি।”
গণ’ শব্দের অর্থ একটি গোষ্ঠী, সমষ্টি বা বিষয়শ্রেণি এবং ‘ঈশ’ শব্দের অর্থ ঈশ্বর বা প্রভু। আবার গণপতি শব্দটির অর্থ দাঁড়ায় গোষ্ঠীর যিনি
প্রভু বা অবিভাবক। আবার অধিবিনায়ক, "অধি" শব্দের অর্থ "আদ্যকালীন" বা "প্রাচীন" এবং "বিনায়ক" গণেশেরই নামান্তর। দ্বিতীয় নাম "নরমুখ বিনায়ক" "নর" (মানব), "মুখ" (মুখমণ্ডল) ও "বিনায়ক" শব্দ তিনটির সমষ্টি।
তামিল ভাষায় গণেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম হল ‘পিল্লাই’ । ‘পিল্লাইয়ার’ শব্দের অর্থ ‘মহান শিশু’। আবার কেউ
কেউ বলছেন বলেছেন যে, ‘পিল্লাইয়ার’ নামটির মূল ‘পিল্লে’ শব্দটির আদি অর্থ সম্ভবত ‘হস্তীশাবক’। কারণ, পালি ভাষায় ‘পিল্লাকা’ শব্দের অর্থ তাই।
শ্রীলঙ্কার সিংহল বৌদ্ধ অঞ্চলগুলিতে গণেশ ‘গণ দেবিয়ো’ নামে পরিচিত।
বর্মি ভাষায় গণেশ ‘মহা পেইন্নে) নামে পরিচিত।
থাইল্যান্ডে গণেশের জনপ্রিয় নামটি হল ‘ফ্রা ফিকানেত’।
গাণপত্য সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মগ্রন্থ তথা গণেশ বিষয়ক দুই উপপুরাণ গণেশ পুরাণ ও মুদ্গল পুরাণ-এ পৃথক পৃথকভাবে গণেশের যথাক্রমে চার ও আটটি অবতারের কথা বলা হয়েছে।
বাংলায় গণেশ এক অত্যন্ত জনপ্রিয় দেবতা। ইনি ঘরে ঘরে পূজিত হন। তবে শুধুমাত্র গণেশের নামে উৎসর্গিত কোনও উৎসব বাংলায় পালিত হয় না। এই অঞ্চলে গণেশের সবচেয়ে বড় উৎসব পয়লা বৈশাখ তারিখে বাংলা নববর্ষের দিন পালিত হয়। প্রত্যেক বাঙালি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে এইদিন গণেশ পূজিত হন। কলকাতার কালীঘাট ও দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে গণেশ ও লক্ষ্মীর প্রতিমা এবং হালখাতা নিয়ে অনেকে এই দিন সকালে পূজা প্রদান করতে যান। পূজা হয় গঙ্গাতীরে ও পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য মন্দিরেও। দুর্গাপূজার সময় গণেশ বিশেষভাবে পূজিত হন। দুর্গামূর্তির ডানদিকে অথবা কোনও কোনও ক্ষেত্রে বাঁদিকে গণেশের মূর্তি নির্মাণ করে পূজা করা হয়। এছাড়া ভাদ্র ও মাঘ মাসের শুক্লাচতুর্থী তিথিতেও ঘরোয়া গণেশ পূজা বাংলায় প্রচলিত। কোনও কোনও প্রতিষ্ঠান এই সময় সর্বজনীন গণেশ পূজারও আয়োজন করে থাকেন। এছাড়াও কেউ কেউ কালীপূজার দিন লক্ষ্মী ও গণেশের পূজা করে থাকেন।
তথ্য - উইকিপিডিয়া

Comments
Post a Comment