বিশ্বকর্মা

 আজ দেবতা , স্রষ্টা , কারিগর শিল্পী , বিশ্বকর্মার পূজা ।

বৈচিত্রময় ক্ষমতার অধিকারী বিশ্বকর্মা ঃ
বেদের যিনি বিশ্ব স্রষ্টা , পুরানে তিনি দেবতা দের শিল্পী বিশ্বকর্মা । তিনি স্বর্গের একজন দেবতা । তিনি সহস্র রকম শিল্প জানেন । তিনি দেবতা দের শিল্পের কারিগর । কারিগরি সকল বিদ্যা বিশ্বকর্মার হাতে । মজার ব্যাপার সৃষ্টি সম্পুর্ণ ব্রক্ষ্মার হাতে । তারপরেও তিলোত্তমার মত উর্বশী সৃষ্টিতে বিশ্বকর্মার অবদান লক্ষ্য করা যায়।
দেবতাদের শিল্পী হলেন বিশ্বকর্মা । তিনি নির্মাণ, যন্ত্রপাতি আদি দেবতা । স্বর্গের অনান্য দেবতা দের মতো তাঁরও পূজা হয় । বিশ্বকর্মার ধ্যান মন্ত্রে বলা হয়-
ওঁ বিশ্বকর্মন্ মহাভাগ সুচিত্রকর্মকারক্ ।
বিশ্বকৃৎ বিশ্বধৃক্ ত্বঞ্চ রসনামানদণ্ডধৃক্ ।।
[ এর অর্থ- হে দংশপাল ( বর্মের দ্বারা পালনকারী ) , হে মহাবীর , হে বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা ও বিশ্ব বিধাতা, হে সুন্দর চিত্র রূপ কর্মকারক , আপনি মাল্য চন্দন ধারন করে থাকেন । ]
বিশ্বকর্মার প্রনাম মন্ত্রে বলা হয়-
দেবশিল্পি মহাভাগ দেবানাং কার্য্যসাধক ।
বিশ্বকর্মন্নমস্তুভ্যং সর্বাভীষ্টপ্রদয়ক ।।
[ দেবশিল্পী , মহাভাগ ( দয়াদি অষ্ট গুন যুক্ত ) দেবতা দের কারু কার্য্যসাধক সর্বাভীষ্ট প্রদানকারী হে বিশ্বকর্মা আপনাকে নমস্কার ]
বিশ্বকর্মা কন্যা সংজ্ঞার সাথে সূর্যের বিবাহ হয়। সূর্য সংজ্ঞার সাথে মিলিত হয়ে তিনটি সন্তান উৎপন্ন করেন। এদের নাম রাখা হয় মনু, যম ও যমুনা। সংজ্ঞা সূর্যের প্রখর দ্যুতি ও তেজ সহ্য করতে না পেরে নিজের মতো করে ছায়াকে সৃষ্টি করেন। এই ছায়াকে সূর্যের কাছে পাঠিয়ে ইনি উত্তরকুরুবর্ষে অবস্থান করতে থাকেন। সূর্য পরে ছায়ার সাথে মিলিত হয়ে তিনটি সন্তান উৎপন্ন করেন। এদের নাম রাখা হয় সার্বনি মনু, শনি ও তপতী। পরে সূর্য সংজ্ঞার কৌশল বুঝতে পেরে উত্তরকুরুতে অশ্বরূপ ধারণ করে সংজ্ঞার সাথে মিলিত হন। এই মিলনের ফলে অশ্বিনীকুমারদ্বয়ের জন্ম হয়। এরপর সূর্য সংজ্ঞাকে ফিরিয়ে আনেন। সংজ্ঞার উপযোগী করার জন্য বিশ্বকর্মা সূর্যকে আটটি ভাগে ভাগ করেন। এই আটটি ভাগ পৃথিবীতে পতিত হলে– বিশ্বকর্মা এগুলি দিয়ে বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র, শিবের ত্রিশূল, কুবেরের অস্ত্র, কার্তিকেয়ের তরবারি ও অন্যান্য দেবতাদের অস্ত্র নির্মাণ করে দেন।বিশ্বকর্মা লঙ্কা নগরীর নির্মাতা। তিনি বিশ্বভুবন নির্মাণ করেন।তিনি বিমান নির্মাতা ( দিব্য দেব বিমান ) ।
হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী বিশ্বকর্মা দেবতাদের শিল্পী। তিনি দেবশিল্পী নামে পরিচিত। বৃহস্পতির ভগিনী যোগসিদ্ধা তাঁর মাতা এবং অষ্টম বসু প্রভাস তাঁর পিতা। বিশ্বকর্মার বাহন হাতি।
বিশ্বকর্মা বৈদিক দেবতা, ঋগবেদের ১০ম মণ্ডলে ৮১ এবং ৮২ সূক্তদ্বয়ে বিশ্বকর্মার উল্লেখ আছে। ঋগবেদ অনুসারে তিনি সর্বদর্শী এবং সর্বজ্ঞ। তাঁর চক্ষু, মুখমণ্ডল, বাহু ও পদ সবদিকে পরিব্যাপ্ত। তিনি বাচস্পতি, মনোজব, বদান্য, কল্যাণকর্মা ও বিধাতা অভিধায় ভূষিত। তিনি ধাতা, ও বিশ্বদ্রষ্টা ও প্রজাপতি।
তিলোত্তমা হিন্দু পুরাণে বর্ণিত অপ্সরা (স্বর্গীয় জলপরী)। সংস্কৃত "তিল" শব্দের অর্থ তিল বীজ এবং "উত্তমা" অর্থ ভালো বা উচ্চতর। অর্থাৎ, তিলোত্তমা মানে শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষুদ্রতম কণা বা যার শ্রেষ্ঠত্ব সর্বোচ্চ গুণাবলী স্থিরীকৃত হতে পারে।
হিন্দু মহাকাব্য মহাভারতে বর্ণিত রয়েছে, ব্রহ্মার অনুরোধে ঐশ্বরিক স্থপতি বিশ্বকর্মা কর্তৃক তিলোত্তমা সৃষ্ট হয়েছে যাবতীয় সর্বশ্রেষ্ঠ উপাদানসমূহের সমন্বয়ে। তিনি অসুর (দানব), সুন্দা ও উপাসন্দা, এই তিন দেবতার পারস্পরিক ধ্বংসের জন্য দায়ী। এমনকি শিব ও ইন্দ্রের মতোন দেবতারা নিজেদের তিলোত্তমার প্রেমমুগ্ধ বর্ণনা করে।

Comments

Popular posts from this blog

” জীবন প্রেমের ফষল। আর প্রেম হলো ”মা”।”