মহাভারতের বিভিন্ন চরিত্রের সংগে আমাদের সম্পর্ক

 

অপরাজিতা দৈনিক পত্রিকা

কুরুক্ষেত্র কি ? কুরুক্ষেত্র কি, কেবল ফাঁকা এক মাঠ ? পান্ডব কে ? দুর্যোধন কে ? ভীষ্ম কে ? শ্রীকৃষ্ণ কে ?

মানুষের জীবনের ঘাত প্রতিঘাত, আশা হতাশা, ধর্ম অধর্ম- সেই সব কিছুর চরিত্রায়নই হলো মহাভারত।

) কুরুক্ষেত্র কি ?

মানুষের চিন্তার চারণভূমি।সেই চিন্তার চারণভূমিতে, প্রতিদিন- লোভের সঙ্গে ত্যাগের সংঘাত, সত্যের সঙ্গে মিথ্যের সংঘাত ইত্যাদি ঘটছে।

) কৌরব কারা ?

মানুষের যত ধ্বংসাত্মক গুণাবলী।

) পান্ডব কারা ?

মানুষের যত গঠনাত্মক গুণাবলী।

কৌরব শক্তি:

) দুর্যোধন কে?

আমাদের লোভ আর দম্ভ।

) দুঃশাসন কে ?

কামনা আর লাম্পট্য।

) ধৃতরাষ্ট্র কে ?

আমাদের অন্ধ স্নেহ / অন্ধ ভালোবাসা।

) শকুনি কে ?

আমাদের কুটিলতা।

) কর্ণ কে ?

আমাদের অভিমান।

) ভীষ্ম কে ?

আমাদের গর্ব আর প্রতিজ্ঞা।

) দ্রোণাচার্য্য কে ?

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা।

) শিখন্ডি কে ?

আমাদের দুর্বলতা।

) কর্ণের রথের "চাকা" বসে যাওয়া কি ?

আমাদের দুর্ভাগ্য।

পান্ডব শক্তি:

) যুধিষ্ঠির কে ?

আমাদের সত্য, ধর্ম আর ত্যাগ।

) ভীম কে ?

আমাদের পৌরুষত্ব আর বীরত্ব।

) অর্জুন কে ?

আমাদের নিষ্ঠা আর শ্রম।

) অভিমন্যু কে ?

আমাদের যৌবন শক্তি।

বিদূর কে ?

আমাদের বিবেক।

কৃষ্ণ কে? আমাদের আত্মা।যা পরমাত্মার অংশ।যা আমাদেরকে আলোর পথে চালিত করে।

দ্রৌপদী কে?

আমাদের আত্মার সন্মান।

দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ কি ?

আমাদের আত্মার লাঞ্ছনা।

কুন্তীর কুমারী মাতৃত্ব কি ?

সমাজের প্রথার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ।

কি দেখছো তাহলে...? মহাভারতে,মানুষের সব দোষ আর গুনগুলোকে,এক একটা চরিত্র বানিয়ে গল্পের আকার দেওয়া হয়েছে।

তারপর অর্জুনের উদ্দেশ্যে শ্রীকৃষ্ণের সেই বাণী।যাতে জীবনের দর্শনকে, টুকরো টুকরো করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

সব মানুষই জন্মগতভাবে পশু।তাকে যদি মনুষত্বে উত্তীর্ণ হতে হয়- তাহলে তাকে পান্ডব হয়ে,কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে জয়ী হতে হবে।সেই যুদ্ধে তুমি জয়ী হবে কি করে? মহাভারতের এই দর্শন তোমাকে শিখতে হবে,আর জীবনে তা প্রয়োগ করতে হবে।


Comments

Popular posts from this blog

” জীবন প্রেমের ফষল। আর প্রেম হলো ”মা”।”